WB Ration Entitlement 2026
আপনার রেশন কার্ডে মাসে কত কেজি চাল ও গম পাবেন?
ডিজিটাল রেশন কার্ড ও খাদ্য সাথী প্রকল্প: সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো রেশন কার্ড (Ration Card)। রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর (Department of Food & Supplies) 'খাদ্য সাথী' প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ১০ কোটি মানুষকে স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে খাদ্যশস্য পৌঁছে দিচ্ছে। কিন্তু ডিজিটাল রেশন কার্ড চালু হওয়ার পর থেকে কার্ডের ক্যাটাগরি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে অনেক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আপনার কার্ডটি কি AAY নাকি PHH? RKSY-I এবং RKSY-II কার্ডের মধ্যে পার্থক্য কী? আপনি কি আপনার প্রাপ্য সঠিক রেশন পাচ্ছেন? Smart Sanchay-এর এই WB Ration Card Calculator এবং বিস্তারিত গাইড আপনাকে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেবে।
পশ্চিমবঙ্গের ৫টি রেশন কার্ডের বিস্তারিত পরিচয়
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মূলত ৫ ধরনের ডিজিটাল রেশন কার্ড (Digital Ration Card) চালু রয়েছে। প্রতিটি কার্ডের রং এবং সুবিধা আলাদা। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
| কার্ডের নাম | কার্ডের রং | বিবরণ ও সুবিধা |
|---|---|---|
| AAY (Antyodaya Anna Yojana) | হলুদ (Yellow) | সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের জন্য। এখানে সদস্য সংখ্যা যাই হোক, পরিবার পিছু ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। |
| PHH (Priority Household) | গোলাপী (Pink) | দারিদ্র্য সীমার নিচের পরিবার। মাথাপিছু ৫ কেজি রেশন বরাদ্দ। |
| SPHH (State Priority Household) | সাদা (White) | রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার প্রাপ্ত পরিবার। মাথাপিছু ৫ কেজি রেশন বরাদ্দ। |
| RKSY-I | নীল (Blue) | রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-১। মাথাপিছু ৫ কেজি খাদ্যশস্য বিনামূল্যে। |
| RKSY-II | সাদা (White) | রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা-২। বরাদ্দ কিছুটা কম (মাথাপিছু ২ কেজি)। |
১. অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা (AAY)
এটি ভারত সরকারের একটি বিশেষ স্কিম যা সমাজের অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণীর জন্য তৈরি। এই কার্ডধারীরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান।
- বরাদ্দ: পরিবার পিছু ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য (২১ কেজি চাল + ১৪ কেজি গম/আটা)।
- মূল্য: বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করছে।
- বিশেষত্ব: পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১ জন হোক বা ১০ জন, বরাদ্দের পরিমাণ একই থাকবে।
২. PHH এবং SPHH কার্ড
জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন (NFSA)-এর আওতায় এই কার্ডগুলো পড়ে।
- বরাদ্দ: প্রতি সদস্যের জন্য ৫ কেজি খাদ্যশস্য। সাধারণত ৩ কেজি চাল এবং ২ কেজি গম দেওয়া হয়।
- উদাহরণ: আপনার পরিবারে ৫ জন সদস্য থাকলে, আপনি মোট ২৫ কেজি রেশন পাবেন।
- মূল্য: বিনামূল্যে।
৩. রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা যোজনা (RKSY-I & II)
যাঁরা কেন্দ্রীয় তালিকার অন্তর্ভুক্ত নন, তাঁদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে এই কার্ডগুলি প্রদান করে।
RKSY-I (নীল কার্ড):
এটি অনেকটা PHH কার্ডের মতোই সুবিধা দেয়। এই কার্ডে মাথাপিছু ৫ কেজি খাদ্যশস্য (চাল ও গম) বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
RKSY-II (সাদা কার্ড):
এটি মূলত APL (Above Poverty Line) বা সচ্ছল পরিবারের জন্য। এই কার্ডে বরাদ্দের পরিমাণ কম। সাধারণত মাসে ১ কেজি চাল ও ১ কেজি গম (বা ২ কেজি চাল) দেওয়া হয়। তবে উৎসবের মরশুমে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার অতিরিক্ত বরাদ্দ ঘোষণা করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এখন আর রেশন ডিলারের দোকানে লম্বা লাইন দিতে হয় না। 'দুয়ারে রেশন' প্রকল্পের মাধ্যমে ডিলাররা গাড়িতে করে পাড়ায় পাড়ায় রেশন পৌঁছে দিচ্ছেন। আপনার এলাকার শিডিউল জানতে স্থানীয় ডিলারের সাথে যোগাযোগ করুন।
রেশন কার্ডের স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে? (Check Status)
আপনি অনলাইনে খুব সহজেই আপনার রেশন কার্ডের স্ট্যাটাস বা আবেদনের স্থিতি জানতে পারেন।
- প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ খাদ্য দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট wbpds.wb.gov.in বা food.wb.gov.in-এ যান।
- মেনু থেকে "Check Application Status" অপশনে ক্লিক করুন।
- আপনার ফর্মের ধরন (Form Type) নির্বাচন করুন (যেমন: Form 3, 4, etc.)।
- আপনার মোবাইল নম্বর অথবা ১৬ ডিজিটের অ্যাপ্লিকেশন নম্বরটি লিখুন।
- ক্যাপচা কোড দিয়ে সার্চ করলেই আপনার বর্তমান স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।
রেশন কার্ডের বিভিন্ন ফর্মের ব্যবহার (Forms List)
রেশন কার্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য আলাদা আলাদা ফর্ম রয়েছে। সঠিক ফর্মটি চেনা খুব জরুরি:
- Form 3: পরিবারে নতুন সদস্য যুক্ত করার জন্য (যেমন: শিশুর জন্ম বা নতুন বউ)।
- Form 4: পরিবারের কোনো সদস্যের নাম বাদ দেওয়ার জন্য (মৃত্যু বা বিয়ে হয়ে গেলে)।
- Form 5: কার্ডের ভুল সংশোধন করার জন্য (নাম, বয়স বা ঠিকানা ভুল থাকলে)।
- Form 6: রেশন ডিলার পরিবর্তন করার জন্য (যেমন: এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় শিফট হলে)।
- Form 8: কার্ডের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করার জন্য (যেমন: RKSY-II থেকে RKSY-I বা PHH করার আবেদন)।
- Form 11: রেশন কার্ডের সাথে আধার ও মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করার জন্য।
আধার লিঙ্ক ও ই-কেওয়াইসি (e-KYC) কেন জরুরি?
বর্তমানে রেশন কার্ডের সাথে আধার লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যদি আপনার কার্ডে আধার লিঙ্ক না থাকে, তবে বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ দিয়ে রেশন তুলতে সমস্যা হতে পারে।
রেশন কম দিলে কোথায় অভিযোগ করবেন?
অনেকেই অভিযোগ করেন যে ডিলার ওজনে কম দিচ্ছেন বা নির্দিষ্ট পরিমাণ মাল দিচ্ছেন না। যদি আপনার সাথেও এমন হয়, তবে আপনি নিচের উপায়গুলোতে অভিযোগ জানাতে পারেন:
- টোল ফ্রি নম্বর: ১৯৬৭ (1967) বা ১৮০০-৩৪৫-৫৫০৫ (1800-345-5505)।
- হোয়াটসঅ্যাপ: ৯৯০৩০৫৫৫০৫ (9903055505) নম্বরে চ্যাট করে অভিযোগ জানাতে পারেন।
- ইমেল: অভিযোগ লিখে পাঠাতে পারেন service.wbfood@gmail.com আইডিতে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
হ্যাঁ, শহরাঞ্চলে এবং কিছু নির্দিষ্ট গ্রামীণ এলাকায় গমের পরিবর্তে আটার প্যাকেট দেওয়া হয়। সাধারণত ১ কেজি গমের বদলে প্রায় ৯৫০ গ্রাম আটা দেওয়া হয় (প্রসেসিং লস বাদ দিয়ে)।
হ্যাঁ, যদি আপনার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হয় এবং আপনি যোগ্য হন, তবে Form 8 ফিলাপ করে কার্ড আপগ্রেড করার আবেদন করতে পারেন। এর জন্য ইনকাম সার্টিফিকেট এবং পঞ্চায়েত বা পুরসভার শংসাপত্র জমা দিতে হবে।
না, কার্ড বন্ধ হবে না। তবে আপনি যদি টানা ৩-৬ মাস রেশন না তোলেন, তবে দপ্তর আপনার কার্ডটি নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। তাই নিয়মিত রেশন তোলা উচিত।
থানায় একটি জিডি (GD) করে খাদ্য দপ্তরে Form 9 জমা দিলে ডুপ্লিকেট কার্ড পাওয়া যায়। তবে এখন অনলাইনে ই-রেশন কার্ড (e-Ration Card) ডাউনলোড করেও কাজ চালানো যায়।
আশা করি এই তথ্যগুলো আপনার কাজে লাগবে। আপনার কার্ডে সঠিক কতটা রেশন প্রাপ্য তা জানতে উপরের WB Ration Card Calculator টি ব্যবহার করুন এবং পরিবার ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।
🧮 নিজের লাভ নিজেই হিসাব করুন!
SIP, লোনের EMI, বা পোস্ট অফিস স্কিম—টাকা জমানোর আগে সঠিক হিসাব জানা জরুরি। আমাদের ৫০+ ফ্রি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
সব ক্যালকুলেটর দেখুন →⚠️ Disclaimer (দাবি পরিত্যাগ):
Smart Sanchay ব্লগের সমস্ত কন্টেন্ট শুধুমাত্র শিক্ষামূলক এবং তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। আমরা কোনো SEBI Registered আর্থিক উপদেষ্টা নই। যেকোনো স্কিম, শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে অনুগ্রহ করে স্কিমের অফিসিয়াল ডকুমেন্ট পড়ুন এবং একজন সার্টিফাইড ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের পরামর্শ নিন। আপনার কোনো আর্থিক লাভ বা ক্ষতির জন্য এই ব্লগ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
