WB Pension Eligibility Check
আপনি কি বার্ধক্য বা বিধবা ভাতার জন্য যোগ্য? চেক করুন।
জয় বাংলা পেনশন স্কিম ২০২৬: নিয়ম, যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় বয়স্ক, বিধবা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য 'জয় বাংলা' (Jai Bangla) পেনশন স্কিম চালু রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তারা প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা করে পেনশন পান।
অনেকেই জানেন না যে, ৬০ বছর বয়স হলেই কি পেনশন পাওয়া যায়? নাকি SC/ST-দের জন্য নিয়ম আলাদা? Smart Sanchay-এর এই Pension Eligibility Calculator দিয়ে আপনি খুব সহজেই আপনার যোগ্যতা যাচাই করতে পারবেন।
পশ্চিমবঙ্গের ৩টি প্রধান পেনশন প্রকল্প
| প্রকল্পের নাম | কাদের জন্য? | বয়সসীমা | মাসিক অনুদান |
|---|---|---|---|
| বার্ধক্য ভাতা (Old Age) | সাধারণ/OBC বয়স্করা | ৬০ বছর বা তার বেশি | ₹১,০০০ |
| তপশিলি বন্ধু | তপশিলি জাতি (SC) | ৬০ বছর বা তার বেশি | ₹১,০০০ |
| জয় জহর | তপশিলি উপজাতি (ST) | ৬০ বছর বা তার বেশি | ₹১,০০০ |
| বিধবা ভাতা | বিধবা মহিলারা | ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে | ₹১,০০০ |
| মানবিক | ৪০% বা তার বেশি প্রতিবন্ধী | বয়সসীমা নেই | ₹১,০০০ |
১. বার্ধক্য ভাতা (Old Age Pension)
পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা, যাঁদের বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরা এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদনকারীকে আর্থিকভাবে দুর্বল হতে হবে এবং সরকারি অন্য কোনো পেনশন (যেমন চাকরির পেনশন) পাওয়া চলবে না।
তপশিলি জাতিদের জন্য এই স্কিমের নাম 'তপশিলি বন্ধু' এবং উপজাতিদের জন্য 'জয় জহর'। এক্ষেত্রেও বয়স ৬০ বছর হতে হবে, তবে আবেদন পদ্ধতি অনেক সহজ।
২. বিধবা ভাতা (Widow Pension)
স্বামী মারা যাওয়ার পর আর্থিকভাবে অসহায় মহিলাদের জন্য এই প্রকল্প। আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো বিধবা মহিলা বার্ধক্য ভাতা বা লক্ষীর ভাণ্ডার পান, তবে তিনি আলাদা করে বিধবা ভাতা পাবেন না (যেকোনো একটি পাবেন)।
৩. মানবিক প্রকল্প (Manabik Pension)
যাঁদের ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা আছে, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য। এর জন্য জেলা হাসপাতালের ডাক্তারের দেওয়া ডিসএবিলিটি সার্টিফিকেট (Disability Certificate) থাকা বাধ্যতামূলক।
আবেদন করবেন কীভাবে? (Application Process)
জয় বাংলা পেনশনের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায় না। আপনাকে অফলাইনে ফর্ম জমা দিতে হবে।
- কোথায় পাবেন ফর্ম: বিডিও অফিস (BDO), এসডিও অফিস (SDO) বা কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অফিসে। অথবা অনলাইনে 'Form P' ডাউনলোড করে নিতে পারেন।
- কোথায় জমা দেবেন: গ্রামাঞ্চলে বিডিও অফিসে এবং শহরাঞ্চলে এসডিও বা পুরসভায়। এছাড়াও 'দুয়ারে সরকার' ক্যাম্পে এই ফর্ম জমা নেওয়া হয়।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required)
- আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড।
- রেশন কার্ড।
- ব্যাংকের পাশবুক (নিজস্ব অ্যাকাউন্ট)।
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
- জাতি শংসাপত্র (SC/ST হলে)।
- স্বামীর মৃত্যু শংসাপত্র (বিধবা ভাতার জন্য)।
- প্রতিবন্ধী শংসাপত্র (মানবিক স্কিমের জন্য)।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
না। একজন মহিলা ৬০ বছর পূর্ণ করলে তাঁর লক্ষীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যায় এবং সেটি বার্ধক্য ভাতায় রূপান্তরিত হয়। তখন তিনি মাসে ১,০০০ টাকা পেনশন পাবেন।
না, আপনার বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পরেই আপনি আবেদন করতে পারবেন। ক্যালকুলেটরে আপনার জন্মের তারিখ দিলে দেখিয়ে দেবে কত দিন বাকি আছে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর ভেরিফিকেশন হতে সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগে। স্ট্যাটাস চেক করার জন্য আপনার আধার নম্বর দিয়ে বিডিও অফিসে খোঁজ নিতে পারেন।
🧮 নিজের লাভ নিজেই হিসাব করুন!
SIP, লোনের EMI, বা পোস্ট অফিস স্কিম—টাকা জমানোর আগে সঠিক হিসাব জানা জরুরি। আমাদের ৫০+ ফ্রি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
সব ক্যালকুলেটর দেখুন →⚠️ Disclaimer (দাবি পরিত্যাগ):
Smart Sanchay ব্লগের সমস্ত কন্টেন্ট শুধুমাত্র শিক্ষামূলক এবং তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। আমরা কোনো SEBI Registered আর্থিক উপদেষ্টা নই। যেকোনো স্কিম, শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে অনুগ্রহ করে স্কিমের অফিসিয়াল ডকুমেন্ট পড়ুন এবং একজন সার্টিফাইড ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের পরামর্শ নিন। আপনার কোনো আর্থিক লাভ বা ক্ষতির জন্য এই ব্লগ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
